বরিশাল খবর অনলাইন নিউজ : বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-কে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর নতুন করে সামনে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য। দ্বিতীয় পর্বে উঠে এসেছে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে সাংবাদিক ভাতা উত্তোলন, একই দিনে একাধিক কর্মশালার নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং একটি সুসংগঠিত আর্থিক নেটওয়ার্কের অভিযোগ।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-এর হস্তক্ষেপ , নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ দাবি দাবি জানিয়েছেন।
ফারুক ওয়াসিফ ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পিআইবির মহাপরিচালক পদে যোগদান করেই শুরু করেন দুর্নীতির বানিজ্য। বিধি বর্হিভূত ভাবে পরিচালক, উপ-পরিচালক, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষক সহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভাবে তার বন্ধু, বান্ধবী ও আত্মীয়দের-কে নিয়োগ দিতে থাকেন। এই নিয়োগের বিষয়ে পিআইবির স্থায়ী কর্মকর্তা কর্মচারী আপত্তি তুললে তাদের উপর খড়ক নেমে আসে। তিনি তখন দম্ভোক্তি করে বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের সচিব আমার খুবই কাছের লোক, পিআইবির বিষয়ে আমি যা বলব তাই হবে। আমার সিদ্ধান্তের বাহিরে বোর্ড ও মন্ত্রনালয়ের কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং আমার কাজে যারা প্রশ্ন তুলবে তাদের চাকুরী নট করে দেব।
নিয়োগ বানিজ্য:
ফারুক ওয়াসিফ বিধি বর্হিভূত ভাবে মোট ৩৯জন লোক অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রদান করেছেন। নিয়োগ পেয়েছে যারা তারা মহাপরিচালকের বন্ধু, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও আত্মীয়। বিভিন্ন জনের নিকট থেকে মোটা উৎকোচের বিনিময়ে চাকুরী স্থায়ী করার শর্তে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এর চুরি, দুর্নীতি ও অবৈধ নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জনালে হিসাব রক্ষক (চ.দা) মোঃ আলী হেসেন-কে বিনা অপরাধে চাকুরী থেকে অবসর দেয়া হয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় পরিচালক (প্রশিক্ষক) চ.দা. পারভীন সুলতানা রাব্বী-কে মন্ত্রনালয়ে ভুল বুঝিয়ে নিমকো-তে বদলী করা হয়। কাউকে অন্য শাখায় বদলী করা হয়। কাউকে কর্মহীন করে রাখা হয়েছে। পিআইবিতে বর্তমানে চাকুরী হারানোর বিষয়ে অনেকেই আতঙ্কে আছেন।
বোর্ড মিটিং-এ কিছু বোর্ড মেম্বার-কে ম্যানেজ করে ৩৯ জন অস্থায়ী-কর্মকর্তা কর্মচারীকে স্থায়ী করার জন্য বোর্ডেএ উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু ফারুক ওয়াসিফ-এর চালাকি বোর্ড মেম্বারদের চোখে ধরা পড়ে যায়। বোর্ড বলে দেয় বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে পুনরায় বোর্ডে উপস্থাপন করার জন্য। ফলে মহাপরিচালকের মাথা নষ্ঠ হয়ে যায়। নামে মাত্র নিয়োগ বিধি মানার জন্য সম্প্রতি তার নিয়োগকৃত অস্থায়ীদের স্থায়ী করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। জরুরী সিলেকশন কমিটি ডেকে মোটা উৎকোচ গ্রহন করে স্থায়ী পদে নিয়োগ প্রদান করার জোর তৎপরতা চলছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি অতি গোপনে তার বন্ধু অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিন, উপ-পরিচালক (প্রশা:) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর, সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ, সহ-সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, অবৈধ হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম-কে নিয়ে সন্ধ্যার পর কাজ করে যাচ্ছেন।
এই সব কাজে সহযোগিতা করছে পিআইবির সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা এর মধ্যে এক জন অবসর গ্রহণকারী হিসাব অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী যাকে বর্তমান মহাপরিচালক বিধিবর্হিভূত ভাবে অস্থায়ী ভাবে উচ্চ বেতনে উপ-পরিচালক প্রশাসন পদে বসিয়ে অবৈধ ভাবে আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট করে যাচ্ছেন। এই মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর মাধ্যমে মহাপরিচালক ভূয়া বিল ভাউচার তৈরী করে সকল অবৈধ লেনদেন সকল চুরি, দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া আইবাসের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত বিভিন্ন খাতে অব্যয়িত এক কোটি বার লক্ষ টাকা অন্য ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা হচ্ছে।
অবৈধ ভূয়া আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর-কে সহযোগীতা করছেন বর্তমান মহাপরিচালকের অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ, সহ-সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, অবৈধ হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম সহ কয়েকজন।
মধ্যে পিআইবি-কে ধংসের অন্যতম কর্মকর্তা টেকনিক্যাল সুপারভাইজার আফতাবউদ্দিন ভূইয়া যিনি আওয়ামিলীগের নিয়োগকৃত। তিনি পিআইবির টেন্ডার সংক্রান্ত সকল কাজের হোতা বিভিন্ন প্রতিষ্টানের যোগসাজসে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি, লুটপাট ও অসাধু কর্মকান্ডের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। তার পুরস্কার হিসেবে ফারুক ওয়াসিফ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রী না থাকা সর্ভেও তাকে নিয়োগ বিধি লঙন করে পরিচালনা বোর্ড-কে অবহিত না করে প্রকৌশলী পদে পদন্নোতি প্রদান করেন। প্রশাসনের সকলকাজ কর্ম তার মাধ্যমে চলে। কারন ডিজি যাদের নিয়োগ প্রদান করেছেন তারা কোন কাজ কর্ম জানেন না। এই দুর্নীতিবাজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজার আফতাবউদ্দিন ভূইয়া সকল চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট ও অসাধু কর্মকান্ডের একমাত্র সহযোগী। উল্লেখ্য, পিআইবির সকল অবৈধ লেনদেনের টাকা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ-কে অগ্রিম প্রদানের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন।
একই দিনে ৪ কর্মশালা,কোটি টাকার ভুয়া বিল
১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ তারিখে তারুণ্যের উৎসব, জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনার, গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে একই দিনে ৪-টি কর্মশালা দেখিয়ে তেইশ লক্ষ সাতানব্বই হাজার পাঁচ শত টাকার ভুয়া বিল ভাউচরের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন।
১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে
তারুণ্যের উৎসব নামে পাচঁ লাখ তিয়াত্তর হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
সঙ্গীত সন্ধ্যা নামে অনুষ্ঠান দেখিয়ে আদনান কাইয়ুম গ্রুফ লিডার নবজাগরাণ
সঙ্গিত নিকেতন, বারিধারা ঢাকা নামে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার
টাকার ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত
পিআইবিতে আধুনিক অডিটোরিয়াম ও সেমিনার রুম থাকা সত্বেও সাউন্ড সিস্টেম, আলোক সজ্জা দেখিয়ে বর্তমান বাংলা লিঃ নামে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। দুই দিনের অনুষ্ঠানে দুই বার গেট সাজানোর নামে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত জুলাই অভ্যুত্থান চলচ্চিত্র, আলোক চিত্র ভিডিও প্রদর্শনীর নামে ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বাস্তবে এর কিছুই হয় নাই।
১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২০০ সাংবাদিককে ভাতা ও যাতায়াত পরিশোধের ভূয়া স্বাক্ষরের বিল করে টাকা আত্বসাত করা হয়েছে। এবং এই ভূয়া বিলের মধ্যে আলোচকদের সম্মানী দেখিয়েছেন মাহবুব মোর্শেদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, মো: মাঈনুল ইসলাম সাংবাদিক বাংলাভিশন, ওবায়দুল হক সহযোগী অধ্যাপক চ.বি, শহীদুল্লাহ লিপন অধ্যাপক, চ. বি, খান মোহাম্মদ বাহাদুর, অধ্যাপক সোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এদের নামে ১ লাখ টাকা ভূয়া বিল বানিয়ে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বাস্তবে এই সব আলোচকরা অনুষ্ঠানে আসেই নাই।
গত ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এখানেও ২০০ জন সাংবাদিক ও ছাত্র দেখিয়ে তাদের ভূয়া স্বাক্ষর করে ভাতা ও যাতায়াত বিল এবং খাবার ও আনুসঙ্গিক ভুয়া বিল করে টাকা আত্বসাত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২ সেপ্টেম্বর-২০২৫ তারিখে Camera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা ফারুক ওয়াসিফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ ভূয়া বিল ভাউচার দাখিলের মাধ্যমে উক্ত টাকা আত্মসাত করেন। এই বিল গত ৪ সেপ্টেম্বর-২০২৫ তারিখে দাখিল করে একদিনের মধ্যে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, উপ-পরিচালক (প্রশাঃ) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর, হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম ও মহাপরচালক ফরুক ওয়াসিফ চূড়ান্ত ভাবে পাশ করেন। তদন্ত করলে মাহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ ১৫ মাসের দায়িত্ব পালন কালে কোটি কোটি টাকা অনিয়ম মন্ত্রনালয় ও পরিচালনা বোর্ড-কে বোকা বানিয়ে স্থায়ী ও দক্ষ কর্মকর্তা কর্মচারীদের সরিয়ে দিয়ে এই চুরি, দুর্নীতির মহা উৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের আমন্ত্রনে গত ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর তারিখে সরকারী খরচে ফারুক ওয়াসিফ আজার বাইজান সফর করেন। এই সফরের আগের দিন কোন মন্ত্রনালয়ের কোন জিও, অনুমোদনের কোন কাগজ পত্র নোট ছাড়াই তার পিএ নামে ৬৫,০০০ টাকার চেক ইস্যু করে টাকা উত্তোলন করেন ফারুক ওয়াসিফ-কে প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া কোন প্রয়োজন ছাড়াই ৬ষ্ঠ তলা ভবনের ৩য় তলায় টেন্ডার ছাড়া কিছু মেরামত ও পরিবর্তনের কাজ দেখিয়ে ৭০ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধের নামে ৫০% টাকা আত্মসাত করেছে মহাপরিচালক। একই বিল্ডিং এর ২য় তলায় মেরামত ও পরিবর্তন দেখিয়ে ৯০ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধের নামে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
অডিট নির্দেশ অমান্য ও তহবিল স্থানান্তর
গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের সরকারী অডিট চলাকালীন সময়ে পিআইবির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা জমা ছিল। সরকারী অডিটের নির্দেশ ছিল উক্ত টাকা সরকারী তহবিলে জমা করা। কিন্তু অবৈধ ভূয়া আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর কু- পরামর্শে উক্ত টাকা সরকারী তহবিলে জমা না করে ডিজি ইচ্ছামত ব্যয় করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সুবিধা প্রাপ্ত কথিত বুদ্ধিজীবি মোন্তাছির মামুন, শাহরীয়ার কবীর, সাংবাদিক বোরহান কবীর, মোজাম্মেল বাবু, নাইমুল ইসলাম খান ও মুন্নিসাহা-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন ফারুক ওয়াসিফ, বন্ধু গোলাম মুর্শেদ, মুন্না, মনিরা শরমিন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আরিফিন সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খোরশেদ আলমের তৃতীয় স্ত্রী সিফাত তাসনিম, সহ-সম্পাদক গোলাম মুতুর্জা সহ কয়েক জন অস্থায়ী আওয়ামী ঘরনার কর্মকর্তাকে নিয়ে পিআইবিতে স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জিম্মী করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
পিআইবির ডরমিটরিতে নিয়ম ভেঙ্গে সাংবাদিকদের থাকতে না দিয়ে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, অস্থায়ী পরিচালক (প্রশাঃ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার ও অস্থায়ী উপ-পরিচালক (প্রশা:) নাছির উদ্দীন চৌধুরীর আত্মীয় স্বজনকে বিনা ভাড়ায় দিনের পর দিন থাকেন। এটা পিআইবির ইতিহাসে নজির বিহীন ঘটনা। মহাপরিচালক অফিস সময়ের পর পিআইবির ডরমিটরিতে প্রায়ই বন্ধু বান্ধবী নিয়ে মদ ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকেন। মাঝে মধ্যে মদ্যপান করে মাতাল অবস্থায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অস্থায়ী কর্মকর্তাদের সহায়তায় তার নিজস্ব নিয়োগকৃত ড্রাইভার রাসেল বাসায় পৌছাইয়া দেন। এই ডিজি পিআইবির পরিবেশ-কে কলুষিত করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ফারুক ওয়াসিফ মহাপরিচালক হিসাবে পিআইবিতে যোগদানের পর মদপানের জন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিকট থেকে টাকা হাওলাদ নিতেন। কিন্তু কখনো টাকা ফেরৎ দেন নাই। এখনো ৮/১০ জন তার নিকট টাকা পাওনা আছে সে টাকা ফেরৎ চাওয়ার কেহ সাহস পা না। বর্তমানে তার নিয়োগকৃত অস্থায়ী সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদের নামে অগ্রিম দেখিয়ে ট্রেনিং, সেমিনার, মিটিং ও অফিস আপ্যায়ন এর ভুয়া বিল করে নিয়মিত মদপানের অর্থ সংগ্রহ করেন। এখন সে আর কারও কাছ থেকে হাওলাত নিতে হয় না।
বিভিন্ন টেনিং ও সেমিনারে তার বাহিনী ও ফারুক ওয়াসিফ প্রশিক্ষনের অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদেরসাথে দুর্ব্যবহার করেন। সদ্য সমাপ্ত একটি সমাপানী অনুষ্ঠানেও এ ঘটনা ঘটে।
দুর্নীতিবাজ পিআইবির মহা পরিচালক ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ ও দুর্নীতির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রীর নিকট সাংবাদবক সমাজ ও পিআইবির জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।