অনলাইন : কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, বরিশাল এর যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকের বিরুদ্ধে "বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ”, নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যা নিয়ে এনবিআরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের হওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন খোদ মাজেদুল হকের সহকর্মীগণও।
২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর দিনাজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-এ ভুক্তভোগী পারুল নাহার (২৮) এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক ফেসবুকে পরিচয়ের সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে "প্রেমের সম্পক” গড়ে তোলেন এবং "বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে" তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক ফেসবুকে পরিচয়ের সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে "প্রেমের সম্পক” গড়ে তোলেন এবং "বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে" তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক এর নির্দেশে আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি ২০০ থেকে ৩০০ লোক নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
জানাগেছে, মামলার পর ভুক্তভোগীর ওপর চাপ সৃষ্টি ও হুমকির অভিযোগে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় আরেকটি লিখিত এজাহার দায়ের (মামলা নং-২৩, ২০/১১/২০২৫) করা হয়েছে। এজাহারে মো. রাজন, মো. ভুট্টু, মো. মোজাফ্ফর রহমান (মনজু), মো. আহসান সহ ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটি তুলে নিতে কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে নিয়মিত ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। এমনকি ভুক্তভোগীকে একা দেখা না করলে অপহরণ ও গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে করে অস্ত্রসজ্জিত একটি দল দিনাজপুরের কসবা খোয়ারের মোড়ে ভুক্তভোগীর বাবার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। পরে পুলিশ আসার আগেই হামলাকারীরা তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে রেখে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়,
মাজেদুল হক
বিএনপির মহাসচিব
ও এলজিআরডি
মন্ত্রী মীর্জা
ফখরুল ইসলাম
আলমগীরের আত্মীয়
পরিচয়ে ক্ষমতা
প্রদর্শন করেন।
তার স্ত্রী
মোসাম্মৎ
বিলকিস আক্তার
২৮তম বিসিএস
ক্যাডার। দুই
সন্তানের পিতা
মাজেদুল হক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমবার দিনাজপুর শহরের মাজেদুলের এক বন্ধুর ভাড়া করা মেসে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে এবং অগোচরে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ভিডিও করে রাখে মাজেদুল হক। পরবর্তীতে ঐ তরুনী মাজেদুলের সাথে দেখা করতে না চাইলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আবারও খুলনা নিয়ে তাকে ৯ দিন আটকে রাখে, রংপুরে চাকরির সুবাদে একাধিকবার এবং ঢাকায় মোহাম্মদপুর আশা ইউনিভার্সিটির পাশে তার নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে রেখে মাসের পর মাস তরুনীর দেহ ভোগ করে ।
পরবর্তীতে ঐ তরুনী বিয়ের জন্য
চাপ দিলে
মাজেদুল তাকে
বিষয়টি প্রকাশ
না করার
জন্য মিথ্যা
প্রলোভন দেয়।
এতেও সমাধান
না হলে,
মাজেদুল সন্ত্রাসী
বাহিনী দিয়ে
তরুনী ও
তার পরিবারকে
হত্যা, এমনকি
নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেয়।