আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Faruq Wasif’s Fraud: 2.4 Million Disappeared Through Fake Seminar and Journalists’ Forged Signatures ইত্তেহাদ নিউজ: আন্তর্জাতিক বাংলা অনলাইন সাংবাদিকতায় নির্ভরযোগ্য একটি সংবাদমাধ্যম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসী কণ্ঠ—কেন দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইত্তেহাদ নিউজ বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি দখল ও দুর্নীতির অভিযোগে উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা আলোচনায় ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিআইপি ও সাধারণ কর্মচারীদের আলাদা মেন্যু, সমালোচনায় বরিশাল সিটি পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য পিআইবিতে দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার ভুয়া বিল: স্বাক্ষর জাল, ভাউচার ভুয়া, সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad.news): সততা, নিরপেক্ষতা ও সাহসী সাংবাদিকতার নির্ভরযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পবিপ্রবির উপ-উপাচার্য ড. এস এম হেমায়েত জাহানের বিরুদ্ধে গুগল স্কলার সাইটেশন জালিয়াতির অভিযোগ বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন: বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ স্বাধীন সাংবাদিকতায় জনপ্রিয় ইত্তেহাদ নিউজ ডিজিটাল ও স্মার্ট সাংবাদিকতায় ‘ইত্তেহাদ নিউজ’ বানারীপাড়ায় পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইক্লিং: উদ্যোক্তা মো. ইউনুসের সফল গল্প নতুন লুকে সুনেরাহ বরিশাল কর বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লা দুর্নীতির শীর্ষে ডিপিএইচইতে পাঁচ কোটিতে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার দখল বরিশালে নির্বাচনী সফরে আসছেন তিন রাজনৈতিক দলের প্রধান ইসি ওয়েবসাইট তথ্য ফাঁস: সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ড বিষয়ে সত্য কি? বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সেলিনা বেগম ফের আলোচনায়

পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

রিপোর্টারের নাম: বরিশাল খবর
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : ৫ মার্চ ২০২৬
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: ফারুক ওয়াসিফ
📸 ফটো কার্ড জেনারেটর

পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভুয়া সেমিনারের নামে বিল-ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)–এ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের “তারুণ্যের উৎসব” উপলক্ষে দেখানো দুটি সেমিনার বাস্তবে অনুষ্ঠিতই হয়নি। অথচ সেই সেমিনারের নামে কয়েক লাখ টাকার বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে।

এই অভিযোগের সূত্র ধরে টানা তিন দিন পিআইবির কার্যালয়ে গিয়ে অনুসন্ধান চালায় কালের কণ্ঠ অনুসন্ধানী টিম। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে একের পর এক অসঙ্গতি, অস্বীকার এবং পরে আংশিক স্বীকারোক্তি।


সেমিনারের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন

পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার–কে প্রথমে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিতই এমন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু ভুয়া বিল-ভাউচারের বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি ও উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী দুজনেই সেমিনার অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বিল-ভাউচারে তাঁদের স্বাক্ষর দেখানো হলে তাঁরা স্বাক্ষর নিজেদের বলে স্বীকার করলেও কাগজপত্রের বৈধতা অস্বীকার করেন।

তৌহিদুল আনোয়ার বলেন—

“স্বাক্ষর আমারই, কিন্তু এই কাগজে আমি দিয়েছি কি না জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।”

অন্যদিকে নাছির উদ্দীন চৌধুরী দাবি করেন—

“ওই সময় কোনো সেমিনার হয়নি। এটা একটা রিউমার। প্রযুক্তির যুগে স্বাক্ষর নকল করা অসম্ভব কিছু না।”


সন্দেহজনক ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বিল

অনুসন্ধানী টিম ১৯ ফেব্রুয়ারির ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার একটি বিল সামনে আনলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

বিলে নিজের স্বাক্ষর দেখে পরিচালক তৌহিদুল আনোয়ার প্রথমে বিস্মিত হয়ে বলেন—

“স্বাক্ষরটা তো আমারই, কিন্তু বিলটা তো ফেক।”

অন্যদিকে দাবি করা হয়, ওই দুই সেমিনারে প্রায় ৪০০ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই সাংবাদিক। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কেউই এমন কোনো সেমিনারের কথা জানেন না।


অনুসন্ধানে ভেঙে পড়লেন সমন্বয়কারী

এই অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন পিআইবির সিনিয়র প্রশিক্ষক ও অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী গোলাম মুর্শেদ

প্রথমে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিলে থাকা স্বাক্ষরকেও তিনি “ডিজিটালি বসানো” বলে দাবি করেন।

কিন্তু যখন অনুসন্ধানী টিম সরেজমিনে যাচাইয়ের তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করে, তখন এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন—

“বিলগুলো সাজানো। গত বছর ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারির সেমিনার দুটি আসলে হয়নি।”

তিনি আরও দাবি করেন, এসব ভুয়া বিল তৈরি করা হয়েছিল পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ–এর নির্দেশে।

গোলাম মুর্শেদের ভাষায়—

“ডিজি সাহেব বলছিলেন, একটা প্রোগ্রাম দেখায়ে টাকাটা সমন্বয় করে দিতে।”


মন্ত্রণালয়ের টাকার সমন্বয়?

গোলাম মুর্শেদের দাবি, মন্ত্রণালয় থেকে আসা বিশেষ বরাদ্দের টাকা সমন্বয়ের জন্যই এসব ভুয়া বিল তৈরি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন—

“মন্ত্রণালয়ের কিছু কাজের টাকা খরচ দেখানোর জন্য আমাদের বলা হয়েছিল।”

তিনি আরও দাবি করেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার একটি অংশও অন্য খাতে ব্যয় দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।


ডিজির বক্তব্য: সবই মিথ্যা

এ বিষয়ে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন—

“এ ধরনের একটি বিল পিআইবির একটি দুষ্টচক্র তৈরি করেছিল, কিন্তু আমি সেটিকে অনুমোদন দিইনি।”

তিনি আরও দাবি করেন, পরে বিষয়টি সামনে এলে তিনি সেই বিল বাতিল করে দেন।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যদি অনুমোদন না দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তাঁরসহ ছয়জন কর্মকর্তার স্বাক্ষরসংবলিত বিল তৈরি হলো কীভাবে এবং ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হলো কেন।


নতুন প্রশ্নের জন্ম

এই ঘটনার পর পিআইবির অভ্যন্তরে দুর্নীতি, ভুয়া বিল এবং প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে—

  • ভুয়া সেমিনারের নামে বিল তৈরি হলো কীভাবে

  • ছয়জন কর্মকর্তার স্বাক্ষর এল কোথা থেকে

  • ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হলো কার নির্দেশে

  • মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ কতটা সত্য

এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।


কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..

সম্পাদক ও সিইও: মামুনুর রশীদ নোমানী

বরিশাল খবর অফিস: সিএন্ডবি রোড, বরিশাল

ইমেইল: nomanibsl@gmail.com

মোবাইল: 01713799669 / 01712596354

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি

© বরিশাল খবর সর্বস্ব সংরক্ষিত

Developed by : BDIX ROOT